মাসিক বা পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। তবুও আমাদের সমাজে এটি নিয়ে এখনও অনেক লজ্জা, ভুল ধারণা এবং অস্বস্তি রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের অনেক গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় মেয়েরা এখনো সঠিক তথ্য পায় না। পিরিয়ডের সময় কী ব্যবহার করা উচিত, কোনটি শরীরের জন্য ভালো, কোনটি সাশ্রয়ী—এই প্রশ্নগুলো অনেকের মনে থাকে। এই সব প্রশ্নের একটি আধুনিক ও কার্যকর উত্তর হল মেনস্ট্রুয়াল কাপ।
এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানব মেনস্ট্রুয়াল কাপ কী, কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, এর সুবিধা ও অসুবিধা কী, পশ্চিমবঙ্গে কোথায় পাওয়া যায় এবং এটি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো কতটা সত্য।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ কী এবং কীভাবে কাজ করে
মেনস্ট্রুয়াল কাপ হল একটি নরম, ছোট, ঘণ্টার মতো আকৃতির কাপ যা সাধারণত মেডিক্যাল গ্রেড সিলিকন দিয়ে তৈরি হয়। এটি যোনির ভিতরে বসানো হয় এবং পিরিয়ডের রক্ত শোষণ না করে সংগ্রহ করে রাখে। স্যানিটারি ন্যাপকিন যেমন রক্ত শুষে নেয়, মেনস্ট্রুয়াল কাপ তেমন নয়। এটি রক্ত জমা করে রাখে এবং নির্দিষ্ট সময় পরে খুলে পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যায়।
ভারতে এখন বেশ কয়েকটি সংস্থা মেনস্ট্রুয়াল কাপ তৈরি ও বিক্রি করছে। এর মধ্যে রয়েছে Sirona, Pee Safe, Boondh এবং Saathi। এই ব্র্যান্ডগুলোর কাপ অনলাইনে এবং অনেক ফার্মেসিতে সহজেই পাওয়া যায়।
কেন পশ্চিমবঙ্গে মেনস্ট্রুয়াল কাপের চাহিদা বাড়ছে
পশ্চিমবঙ্গে পরিবেশ সচেতনতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কলকাতা, হাওড়া, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ির মতো শহরে কলেজছাত্রী ও কর্মজীবী নারীদের মধ্যে মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। কারণ অনেকেই বুঝতে পারছেন যে মাসে মাসে প্যাড কেনার খরচ বেশ বেশি হয়ে যায়। অন্যদিকে একটি ভালো মানের মেনস্ট্রুয়াল কাপ পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। একবার কিনলেই দীর্ঘ সময়ের জন্য নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
পরিবেশের দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। স্যানিটারি প্যাডে প্রচুর প্লাস্টিক থাকে এবং সেগুলো মাটিতে পচতে বহু বছর সময় লাগে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা রয়েছে। মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করলে এই প্লাস্টিক বর্জ্য অনেকটাই কমানো সম্ভব।
স্বাচ্ছন্দ্যের দিক থেকেও এটি অনেকের কাছে সুবিধাজনক। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ছয় থেকে বারো ঘণ্টা পর্যন্ত বদলানোর প্রয়োজন হয় না। অফিসে দীর্ঘ সময় কাজ করা, কলেজে ক্লাস করা বা ভ্রমণে বের হলে এটি বিশেষ সুবিধা দেয়।
আরও পড়ুন:ডায়াবেটিস কি শুধু মিষ্টি খেলে হয়?
কীভাবে Menstrual Cup ব্যবহার করবেন ?
প্রথমবার মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করতে গেলে কিছুটা ভয় বা অস্বস্তি হওয়া স্বাভাবিক। তবে ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যায়। প্রথমে কাপটি পরিষ্কার করে নিতে হয়। প্রথম ব্যবহারের আগে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ফুটন্ত জলে সেদ্ধ করে জীবাণুমুক্ত করা উচিত। এরপর হাত ভালো করে ধুয়ে কাপটি ভাঁজ করতে হয়। সাধারণত সি-ফোল্ড বা পাঞ্চ-ডাউন ফোল্ড পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
শরীরকে আরামদায়ক অবস্থায় রাখতে হয়। কেউ স্কোয়াট করে, কেউ টয়লেটে বসে, আবার কেউ দাঁড়িয়ে এক পা উঁচু করে ব্যবহার করেন। ধীরে ধীরে কাপটি যোনির ভিতরে প্রবেশ করাতে হয়। ভিতরে ঢোকার পর এটি নিজে থেকে খুলে গিয়ে একটি সিল তৈরি করে। এই সিলের কারণে রক্ত বাইরে বের হয় না।
ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরে বা রক্তের পরিমাণ অনুযায়ী কাপটি বের করতে হয়। বের করার সময় হালকা করে নিচের অংশ চেপে সিল ভাঙতে হয়, তারপর আস্তে করে টেনে বের করতে হয়। এরপর রক্ত ফেলে জল দিয়ে ধুয়ে আবার ব্যবহার করা যায়।
সঠিক সাইজ বেছে নেওয়া কেন জরুরি
মেনস্ট্রুয়াল কাপের সাইজ সাধারণত দুই বা তিন রকম হয়। ছোট সাইজ সাধারণত কিশোরী বা যাদের এখনো সন্তান হয়নি তাদের জন্য উপযুক্ত। বড় সাইজ সাধারণত যাদের সন্তান হয়েছে বা যাদের রক্তপাত বেশি হয় তাদের জন্য ভালো। তবে প্রত্যেকের শরীর আলাদা। তাই শুধুমাত্র বয়স দেখে নয়, নিজের শারীরিক আরাম অনুযায়ী সাইজ বেছে নেওয়া উচিত। অনেক ব্র্যান্ড তাদের ওয়েবসাইটে সাইজ চার্ট দেয়, সেটি দেখে নেওয়া ভালো।
সঠিক সাইজ ব্যবহার না করলে লিক হতে পারে বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই প্রথমবার ছোট সাইজ দিয়ে শুরু করে প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যেতে পারে।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ ও স্যানিটারি প্যাডের পার্থক্য
স্যানিটারি প্যাড অনেক বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি সহজ এবং পরিচিত পদ্ধতি। কিন্তু দীর্ঘ সময় প্যাড ব্যবহার করলে অনেকের ত্বকে র্যাশ বা চুলকানি হয়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায়, যেমন পশ্চিমবঙ্গে হয়, প্যাডের কারণে অস্বস্তি আরও বেশি হতে পারে।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ ভিতরে অবস্থান করে, তাই বাইরের ত্বকের সঙ্গে ঘর্ষণ হয় না। ফলে র্যাশের সম্ভাবনা কমে। এছাড়া দীর্ঘ সময় বদলানোর প্রয়োজন না হওয়ায় বাইরে গেলে সুবিধা হয়। খরচের দিক থেকেও দীর্ঘমেয়াদে এটি অনেক সাশ্রয়ী।
কোথায় পাওয়া যায়
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বড় শহরগুলির বেশিরভাগ ফার্মেসিতে মেনস্ট্রুয়াল কাপ পাওয়া যায়। কলকাতার বিভিন্ন মেডিক্যাল স্টোরে এটি সহজলভ্য। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাপ পাওয়া যায় এবং বাড়িতে ডেলিভারি হয়ে যায়। শিলিগুড়ি, আসানসোল, বর্ধমান, দুর্গাপুরের মতো শহরেও ধীরে ধীরে এর প্রাপ্যতা বাড়ছে।
প্রচলিত ভুল ধারণা
অনেকেই মনে করেন মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করলে কৌমার্য নষ্ট হয়। আসলে কৌমার্য একটি সামাজিক ধারণা। হাইমেন বিভিন্ন কারণে প্রসারিত হতে পারে এবং এটি দিয়ে কারও চরিত্র বা জীবনযাপন বিচার করা যায় না। তাই এই ভয় অমূলক।
আরেকটি ভুল ধারণা হল কাপ শরীরের ভিতরে হারিয়ে যেতে পারে। বাস্তবে এটি সম্ভব নয়। যোনির একটি নির্দিষ্ট গভীরতা রয়েছে এবং তার শেষে সার্ভিক্স থাকে। কাপ নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে পারে না।
অনেকে মনে করেন ব্যবহার করলে প্রচণ্ড ব্যথা হবে। সঠিকভাবে বসালে সাধারণত ব্যথা হয় না। প্রথম দুই-তিনবার কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে, কিন্তু ধীরে ধীরে শরীর অভ্যস্ত হয়ে যায়।
কারা ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যাদের বারবার যোনি সংক্রমণ হয় বা বিশেষ কোনো গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যা রয়েছে, তারা ব্যবহার শুরু করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। যাদের সিলিকনে অ্যালার্জি আছে, তাদের বিকল্প উপাদানের কাপ ব্যবহার করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন:i-pill কী? জরুরি গর্ভনিরোধক বড়ি সম্পর্কে যা জানা জরুরি
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কেন জরুরি
মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার খোলা ও বসানোর আগে হাত ভালো করে ধুতে হবে। পিরিয়ড শেষ হলে কাপটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে একটি পরিষ্কার পাউচে রেখে দিতে হবে। কয়েক বছর ব্যবহার করার পর নতুন কাপ নেওয়া উচিত।
উপসংহার
মেনস্ট্রুয়াল কাপ কেবল একটি পিরিয়ড প্রোডাক্ট নয়, এটি একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। এটি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারযোগ্য। পশ্চিমবঙ্গের নারীরা যদি সঠিক তথ্য পান এবং ভয় দূর করতে পারেন, তবে মেনস্ট্রুয়াল কাপ তাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রথমবার ব্যবহার করতে একটু দ্বিধা হওয়া স্বাভাবিক। তবে ধৈর্য ধরে শিখলে এবং নিজের শরীরের প্রতি সচেতন হলে এটি হতে পারে নিরাপদ ও আরামদায়ক একটি সমাধান।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ FAQ (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)
মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের নিয়ম কী?
মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের আগে প্রথমে কাপটি ভালোভাবে পরিষ্কার করা খুব জরুরি। প্রথমবার ব্যবহার করার আগে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ফুটন্ত জলে সেদ্ধ করে জীবাণুমুক্ত করতে হয়। এরপর হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। কাপটি সাধারণত ভাঁজ করে যোনির ভিতরে ঢোকানো হয়। সি-ফোল্ড বা পাঞ্চ-ডাউন ফোল্ড পদ্ধতি নতুনদের জন্য সহজ।
কাপটি ভিতরে প্রবেশ করার পর এটি নিজে থেকে খুলে যায় এবং যোনির ভিতরে একটি সিল তৈরি করে। এই সিলের কারণে রক্ত বাইরে লিক করে না। সাধারণত ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত কাপ ব্যবহার করা যায়, তবে রক্তপাত বেশি হলে আরও ঘন ঘন খালি করতে হতে পারে। খুলে ফেলার সময় নিচের অংশ হালকা চেপে সিল ভেঙে আস্তে করে বের করতে হয়। তারপর পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যায়।
পিরিয়ড শেষ হলে কাপটি ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে পরিষ্কার কাপড়ের থলিতে সংরক্ষণ করতে হয়।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ কিভাবে ব্যবহার করে ভিডিও কোথায় পাওয়া যায়?
অনেকেই প্রথমবার ব্যবহার করার আগে ভিডিও দেখে শিখতে চান। বাংলায় মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার শেখানোর ভিডিও এখন ইউটিউবে সহজেই পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্বাস্থ্য সচেতনতা চ্যানেল ও ডাক্তাররা ধাপে ধাপে ব্যবহার পদ্ধতি দেখিয়ে থাকেন। ভিডিও দেখলে ফোল্ড করার পদ্ধতি এবং সঠিকভাবে বসানোর কৌশল বোঝা সহজ হয়।
তবে ভিডিও দেখার সময় নিশ্চিত হতে হবে যে সেটি কোনো ভরসাযোগ্য উৎস থেকে তৈরি, যেমন ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী বা পরিচিত ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল চ্যানেল।
Menstrual cup Bengali uses কী?
Menstrual cup Bengali uses বলতে বোঝায় বাংলায় মেনস্ট্রুয়াল কাপের ব্যবহার পদ্ধতি ও উপকারিতা সম্পর্কে তথ্য। বাংলায় সহজ ভাষায় বুঝলে অনেকের ভয় কেটে যায়। এর প্রধান ব্যবহার হলো মাসিকের সময় রক্ত সংগ্রহ করা। এটি প্যাড বা ট্যাম্পনের বিকল্প।
বাংলায় আলোচনা করলে গ্রামীণ ও শহরতলির মহিলারাও সহজে বিষয়টি বুঝতে পারেন। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বাংলায় তথ্য প্রচার খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ এর দাম কত?
মেনস্ট্রুয়াল কাপের দাম ব্র্যান্ড ও মান অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। সাধারণত ২৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে ভালো মানের কাপ পাওয়া যায়। কিছু আন্তর্জাতিক মানের কাপের দাম এক হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে। যদিও প্রথমে দাম একটু বেশি মনে হতে পারে, কিন্তু একটি কাপ পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। সেই হিসাবে এটি দীর্ঘমেয়াদে অনেক সাশ্রয়ী।
অনলাইনে মাঝে মাঝে ছাড়ও পাওয়া যায়, ফলে কম দামে কেনা সম্ভব হয়।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ কোথায় পাওয়া যায়?
পশ্চিমবঙ্গের বড় শহর যেমন কলকাতা, হাওড়া, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর এবং আসানসোলের অনেক ফার্মেসিতে এখন মেনস্ট্রুয়াল কাপ পাওয়া যায়। এছাড়া অনলাইন শপিং সাইট থেকেও সহজে অর্ডার করা যায়। বাড়িতে ডেলিভারি হওয়ার কারণে অনেকেই অনলাইন কেনাকাটা পছন্দ করেন।
ছোট শহর বা গ্রামে সরাসরি না পাওয়া গেলে অনলাইনই সহজ উপায় হতে পারে।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ কোন সাইজ ঠিক?
সঠিক সাইজ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ছোট এবং বড় এই দুই ধরনের সাইজ বেশি পাওয়া যায়। যাদের বয়স কম এবং যাদের এখনো সন্তান হয়নি, তাদের জন্য ছোট সাইজ উপযুক্ত হয়। যাদের সন্তান হয়েছে বা যাদের রক্তপাত বেশি, তাদের জন্য বড় সাইজ ভালো কাজ করে।
তবে প্রত্যেকের শরীর আলাদা। তাই শুধুমাত্র বয়স বা বৈবাহিক অবস্থার উপর নির্ভর না করে নিজের আরাম অনুযায়ী সাইজ বেছে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
মাসিক কাপ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে?
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মেনস্ট্রুয়াল কাপ সাধারণত নিরাপদ। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না মানলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। অনেকের প্রথম দিকে অস্বস্তি বা চাপ লাগার অনুভূতি হতে পারে। ভুল সাইজ ব্যবহার করলে লিক বা ব্যথা হতে পারে।
খুব বিরল ক্ষেত্রে সংক্রমণ বা অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিবার ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ধোয়া এবং কাপ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোনো অস্বাভাবিক ব্যথা, জ্বালা বা দুর্গন্ধ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সঠিক তথ্য ও সচেতনতার মাধ্যমে মেনস্ট্রুয়াল কাপ নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

