আজকাল অনেক দম্পতির কাছেই সন্তান না হওয়ার বিষয়টি একটি নীরব দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজে এখনো অনেক জায়গায় এই দায়টা শুধু নারীদের ঘাড়েই চাপানো হয়, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তবতা বলছে—অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার উৎস থাকে পুরুষদের দিক থেকে। তখনই প্রশ্ন আসে, প্রজনন ক্ষমতা কমে যায় কেন, বা পুরুষদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের পেছনে আসল কারণগুলো কী।
এই লেখায় আমরা খুব সহজ ও বাস্তব ভাষায় বোঝার চেষ্টা করব—পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে, কোন কোন কারণে তা কমে যেতে পারে, এবং কোন বিষয়গুলো সময়মতো বুঝলে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব।
পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়
পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা মূলত নির্ভর করে শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণমান এবং গতির উপর। শুধু শুক্রাণু থাকলেই হয় না, সেই শুক্রাণুকে সুস্থ, সক্রিয় এবং ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষম হতে হয়। যদি এই তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটিতে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণে বাধা আসতে পারে।
প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলো
পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ থাকে না। বেশিরভাগ সময় এটি জীবনযাপন, শারীরিক সমস্যা এবং মানসিক চাপ—এই তিনটির সম্মিলিত প্রভাব।
দীর্ঘদিন মানসিক চাপ বা উদ্বেগে থাকলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শুক্রাণু উৎপাদনের উপর। পাশাপাশি অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার, দীর্ঘ সময় গরম পরিবেশে থাকা—এসবও ধীরে ধীরে ক্ষতি করে।
ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং কিছু নেশাজাতীয় পদার্থ শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান দুইই কমিয়ে দেয়। অনেক সময় পুরুষ নিজেও বুঝতে পারেন না যে এই অভ্যাসগুলোই ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন:কলেরা রোগের জীবাণুর নাম জানেন? ৯০% মানুষ এখানেই ভুল করে
শারীরিক ও হরমোনজনিত কারণ
কিছু ক্ষেত্রে প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে শারীরিক সমস্যা দায়ী থাকে। যেমন অণ্ডকোষের কোনো সংক্রমণ, শিরা ফুলে যাওয়ার সমস্যা (ভেরিকোসিল), বা শৈশবে হওয়া কিছু রোগ যা পরে প্রভাব ফেলে।
এছাড়াও শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে শুক্রাণু তৈরি ব্যাহত হয়। থাইরয়েড বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগও প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
জীবনযাত্রার ভুল অভ্যাস কীভাবে ক্ষতি করে
বর্তমান জীবনধারায় অনেক পুরুষই দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাজ করেন, শরীরচর্চা করেন না, এবং খাবারের দিকে তেমন নজর দেন না। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, পুষ্টির অভাব, এবং স্থূলতা শুক্রাণুর স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়।
এগুলো একদিনে সমস্যা তৈরি করে না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
শেষ কথা
পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়, আবার এটাকে অবহেলা করারও সুযোগ নেই। সময়মতো কারণগুলো বোঝা গেলে এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি উন্নত করা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সমস্যা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা।
আরও পড়ুন:বারবার পাতলা পায়খানা হলে এটা কি স্বাভাবিক? গুগলে মানুষ আসলে কী খুঁজছে
FAQ: পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা ও শুক্রাণু নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
শুক্রাণু কমে যাওয়ার লক্ষণ কী কী?
অনেক সময় শুক্রাণু কমে যাওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তবে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হওয়া, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া বা বীর্যের পরিমাণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে।
শুক্রাণু কমে যাওয়ার কারণ কী?
মানসিক চাপ, ধূমপান, মদ্যপান, হরমোনের সমস্যা, সংক্রমণ, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—সবকিছুই শুক্রাণু কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
শুক্রাণু তৈরি হতে কতদিন সময় লাগে?
একটি শুক্রাণু সম্পূর্ণভাবে তৈরি হতে সাধারণত প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ দিন সময় লাগে। তাই জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফল পেতে কিছুটা সময় লাগে।
বাচ্চা হওয়ার জন্য কত শতাংশ সুস্থ শুক্রাণু প্রয়োজন?
সব শুক্রাণু নিখুঁত হতে হবে এমন নয়। নির্দিষ্ট শতাংশের বেশি সুস্থ ও গতিশীল শুক্রাণু থাকলেই স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ সম্ভব হতে পারে।
শুক্রাণুর গতি বৃদ্ধির উপায় কী?
নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং মানসিক চাপ কমানো শুক্রাণুর গতি উন্নত করতে সাহায্য করে।
শুক্রাণু কমে গেলে কি করা উচিত?
সবচেয়ে আগে পরীক্ষা করিয়ে প্রকৃত কারণ জানা জরুরি। তারপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হয়।
শুক্রাণু কমে গেলে কি হয়?
শুক্রাণু খুব কম হলে স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই সমাধান সম্ভব।
বীর্য কমে গেলে করণীয় কী?
বীর্যের পরিমাণ কমে গেলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। কারণ নির্ভর করে চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে।

